মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২ ||

তথাগত অনলাইন |বুড্ডিস্ট নিউজ পোর্টাল

প্রকাশের সময়:
৫ মাঘ ১৪২৮ রাত ১২:৩০

214

এস.জ্ঞানমিত্র ভিক্ষু

ত্রিপিটকে কয়টি গ্রন্থ ও কি কি?

প্রকাশের সময়: ৫ মাঘ ১৪২৮ রাত ১২:৩০

214

এস.জ্ঞানমিত্র ভিক্ষু

ত্রিপিটকে কয়টি গ্রন্থ ও কি কি?

ত্রিপিটক প্রধানতঃ তিনটি ভাগে বিভক্ত। ১. বিনয় পিটক, ২. সূত্র পিটক, ও ৩. অভিধর্ম পিটক। বিনয় বুদ্ধ শাসনের আয়ু সদৃশ। অর্থকথায় উল্লেখ হয়েছে সুত্র ও অভিধর্ম পিটক বিলুপ্ত হলেও যদি বিনয় প্রতিপালিত হয় তবে বুদ্ধের ধর্মের বিলুপ্তি ঘটবে না। ব্রহ্মচর্য জীবনের বিশুদ্ধিতা ও স্থায়িত্বের জন্য বিনয় বুদ্ধ কতৃক প্রবর্তিত হয়েছে। এবং বিনয়গুলো একসাথে প্রবর্তন করা হয় নি। উপযুক্ত কারণ ও অবস্থার প্রেক্ষিতে এগুলো প্রবর্তন করেন বুদ্ধ। এই বিনয় ভিক্ষু-ভিক্ষুণীদের মাঝে শৃঙ্খলা, সৌহার্দ্য, প্রীতি, ভ্রাতা-ভগ্নি বন্ধন, নিয়মানুবর্তিতা, সংযম, চরিত্রবল, শীলের প্রতি গারবতা আনয়ন, সমাধিতে নিমগ্ন হওয়া তথা দুঃখ মুক্তির পথ বিনির্মাণে অপরিহার্য। 
বিনয় পিটক বই পাঁচটি, সূত্র বিভঙ্গ-১. পারাজিকা, ২. পাচিত্তিয়; খন্ধক-৩.মহাবর্গ. ৪. চুল্লবর্গ, ও ৫.পরিবার পাঠো। বিনয় পিটকের অর্থকথা হলো সামান্তাপাসাদিকা ও রচয়িতা হলেন আচার্য বুুদ্ধঘোষ।এখানে পরিবার পাঠে অপর চারটি বিষয়ের সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়েছে এবং কিছু দুরুহ বিষয় মীমাংসার নির্দেশনা আছে। সর্বমোট বিনয় শীলের সংখ্যা হল সতের হাজার কোটি পঞ্চাশ লক্ষ ছত্রিশটি। 
 ত্রিপিটকের সূত্র পিটক হলো বুদ্ধের মূলোপদেশের বিন্যাস। এখানে পাঁচটি নিকায় বা ভাগ বিদ্যমান।  প্রথম চারটি নিকায় বুদ্ধের উপদেশের প্রাচীনত্ব দাবী করে বলে পন্ডিতদের অভিমত। 
১.দীর্ঘনিকায়- অর্থকথা- সুমঙ্গল বিলাসিনী, রচয়িতা, আচার্য বুদ্ধঘোষ। দীর্ঘনিকায়ে মোট ৩৪ টি দীর্ঘ সূত্র আছে। 
২. মধ্যম নিকায়- অর্থকথা- প্রপঞ্চসূদনী, রচয়িতা, আচার্য বুদ্ধঘোষ। মধ্যম নিকায় ১৫২ টি সূত্র নিয়ে গঠিত। 
৩.সংযুক্ত নিকায়, অর্থকথা, সারার্থ প্রকাশনী, রচয়িতা, আচার্য বুদ্ধঘোষ। এতে ৭৭৬২ টি সূত্র বিদ্যমান।  
৪. অঙ্গুত্তর নিকায়-অর্থকথা- মনোরথ পূরণী, রচয়িতা, আচার্য বুদ্ধঘোষ। এতে ৯৫৫৭ টি সূত্র বিদ্যমান। 
৫. খুদ্দক নিকায়, এই নিকায়ে সর্বমোট পনেরটি গ্রন্থ- 
১. খুদ্দকপাঠো, অর্থকথা, পরমার্থজ্যোতিকা, রচয়িতা, আচার্য বুদ্ধঘোষ। এটিতে শরণগমন, দশশিক্ষাপদ, বত্রিশ অশুচি পদার্থের বিশ্লেষণ, মঙ্গল, রতন প্রভৃতি সূত্র বিদ্যমান। 
২. ধর্মপদ, অর্থকথা, ধর্মপদর্থকথা, রচয়িতা, আচার্য বুদ্ধঘোষ। এটিতে ৪২৫ টি গাথা বিদ্যমান। 
৩. উদান, পরমার্থদীপনী, আচার্য ধর্মপাল। এটিতে ৮২ টি বুদ্ধ ভাষিত আনন্দ প্রকাশক সংক্ষিপ্ত গাথা আছে। ৪. ইতিবুত্তক,  অর্থকথা ও রচয়িতা পূর্বোক্ত। এতে ১১০ টি সংক্ষিপ্ত ধর্মালোচনা বিদ্যমান। 
৫.সূত্রনিপাত-পরমার্থজ্যোতিকা, আচার্য বুদ্ধঘোষ। এটি ৭০ টি উৎকৃষ্ট উপদেশের সমষ্টি। 
৬.বিমানবস্তু-পরমার্থদীপনী-আচার্য ধর্মপাল। এটিতে দেবলোকে দেবতাদের সুখ বিষয়ক বর্ণনা। 
৭. প্রেতবস্তু, এটিতে প্রেতলোকের দুঃখ বিষয়ক বর্ণনা বিদ্যমান। 
৮. থেরগাথা, এটিতে ১০৭ জন অরহৎ স্থবিরের বুদ্ধ ভক্তিমূলক গাথা ও তাঁদের সংক্ষিপ্ত জীবনেতিহাস। 
৯. থেরীগাথা- ৭০ জন অরহৎ ভিক্ষুণীর বুদ্ধ ভক্তিমূলক গাথা ও তাঁদের সংক্ষিপ্ত জীবনেতিহাস।  এই তিনটির অর্থকথা ও রচয়িতাও হলেন পরমার্থদীপনী , আচার্য ধর্মপাল। 
১০. জাতক, অর্থকথা, জাতকার্থকথা, রচয়িতা আচার্য বুদ্ধঘোষ। এটিতে বুদ্ধের পূর্বজন্মের ৫৫০ জন্মের কাহিনী বিবৃত হয়েছে। 
১১. নির্দেশ, অর্থকথা, সদ্ধর্মপ্রজ্যোতিকা, রচয়িতা আচার্য উপসেন, এটি সুত্র নিপাতের বিস্তৃত ব্যাখ্যা। 
১২. প্রতিমম্ভিদামার্গ, অর্থকথা, সদ্ধর্মপ্রকাশনী, রচয়িতা আচার্য মহানাম; এটিতে অরহৎগণের জ্ঞানের গভীর বিষয় আলোচিত হয়েছে। 
১৩. অপাদান, অর্থকথা, বিশুদ্ধজন বিলাসিনী, রচয়িতা, অজ্ঞাত; এটি বিভিন্ন অরহৎগণের পূর্বজীবনী বিষয়ক।
১৪.বুদ্ধবংশ, অর্থকথা, মধুুরার্থ বিলাসিনী, রচয়িতা আচার্য বুদ্ধদত্ত। এটিতে গৌতম বুদ্ধের পূর্ববর্তী ২৪ জন বুদ্ধের সংক্ষিপ্ত জীবনী লিপিবদ্ধ হয়েছে। 
১৫. চরিয়াপিটক, পরমার্থদীপনী-আচার্য ধর্মপাল।
 এটিতে বুদ্ধের অতীত ৩৪ জন্মের ঘটনাবলী পদ্যছন্দে বিবৃত হয়েছে। উল্লেখ্য, মিলিন্দ প্রশ্ন- সুত্তানূলোম, সূত্রকে অনুসরণকারী।  নেত্তিপ্রকরণ ও পেটকোপদেশ, পশ্চাৎপিটক (মহাকচ্চায়ন থের) এই দুটি বই মায়ানমারে ত্রিপিটকের খুদ্দক নিকায়ে সংযুক্ত হয়েছে।
অভিধর্ম পিটকে সাতটি বই- 
১ ধর্মসঙ্গনী- এটিকে সমগ্র অভিধর্মের বিশুদ্ধ সার সংক্ষেপ বলা হয়। চিত্তের উৎপত্তি বিভাগ, রূপ বিভাগ, নিক্ষেপ বিভাগ(সমগ্র ধর্মসঙ্গনীর সারাংশ) ও অর্থকথা খন্ড এবং এতে ১৪ টি বিভাগ আছে। এটির অর্থকথা হল অর্থশালিনী, রচয়িতা, আচার্য বুদ্ধঘোষ। 
২.বিভঙ্গ, অর্থকথা, সম্মোহবিনোদিনী, রচয়িতা, আচার্য বুদ্ধঘোষ; এতে ১৮ টি পরিচ্ছদ এবং পঞ্চস্কন্ধ, দ্বাদশ আয়তন ও অষ্টাদশ ধাতুসহ বিবিধ বিষয় আলোচিত হয়েছে। 
৩. ধাতুকথা- ১৮ প্রকার ধাতু বিষয়ক বিশদ বর্ণনা আছে। 
৪. পুদ্গল প্রজ্ঞপ্তি- ব্যক্তি চরিত্রের সরূপ এতে তুলে ধরা হয়েছে। 
৫.কথাবত্থু- এটি তৃতীয় সংগীতি সময়কালে সংগীতি প্রধান মোগ্গগলীপুত্ততিষ্য থের রচনা করেন, যাতে ১০০০টি বিষয়ে আলোকপাত করে বিভিন্ন ভ্রান্ত মতবাদ খন্ডন করা হয়। 
৬. যমক- ধর্মের সুক্ষèতত্ত্ব বিবৃত হয়েছে। এবং 
৭. পট্ঠান, কার্যকারণের হেতুপ্রত্যয় বিষয়ক আলোচনা বর্ণিত। এই পাঁচটির অর্থকথা হল প্রপঞ্চপ্রকরণর্থকথা ও রচয়িতা হলেন আচার্য বুদ্ধঘোষ।
তথ্যঋণ:-
১.পালি সাহিত্যের ইতিহাস- ড.রবীন্দ্র বিজয় বড়ুয়া
২.সদ্ধর্ম রত্নচৈত্য- জিনবংশ মহাস্থবির।