মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২ ||

তথাগত অনলাইন |বুড্ডিস্ট নিউজ পোর্টাল

প্রকাশের সময়:
রবিবার ১৬ এপ্রিল ২০২২, ১৯.০৮

352

প্রতিবেদন

মুন্সীগঞ্জে আবিষ্কৃত হলো অষ্টকোণাকৃতির আরেক ধর্মচক্র

প্রকাশের সময়: রবিবার ১৬ এপ্রিল ২০২২, ১৯.০৮

352

প্রতিবেদন

মুন্সীগঞ্জে আবিষ্কৃত হলো অষ্টকোণাকৃতির আরেক ধর্মচক্র

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীর নাটেশ্বরে আবিষ্কৃত হলো আরো একটি অষ্টকোণাকৃতির বৌদ্ধস্তূপ ও ধর্মচক্র।

নবম ধাপে ছয় মাসের উৎখননে আবিষ্কৃত এই নিদর্শন দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাসে বিরল বলে বলছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা আরো বলেন, প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস ও দেশের প্রত্নক্ষেত্রকে আরো সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি গবেষণা ও পর্যটনের ক্ষেত্রে নতুন দ্বার উন্মোচিত করবে এটি।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে আবিষ্কৃত প্রত্নস্থাপনাটি ঘুরে দেখেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ গবেষণা ও উৎখনন কাজের সংশ্লিষ্টরা। পরে এ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মুন্সীগঞ্জের নাটেশ্বরে ২০১৩ সালে প্রথম আবিষ্কৃত হয় ৯০০ থেকে ১২০০ বছরের প্রাচীন বৌদ্ধ প্রাচীন মন্দির ও নগরীর ধ্বংসাবশেষ। এরপর ধাপে ধাপে উৎখননে এলাকাটির মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে এসেছে প্রাচীন নগরীর রাস্তা, মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ, পিরামিড আকৃতির স্থাপনাসহ বহু প্রাচীন নিদর্শন। নবম ধাপের এবার ছয় মাসের উৎখনন কাজে মাটির প্রায় ১৪ ফুট নিচ থেকে আবিষ্কৃত হলো অষ্টকোণাকৃতির স্তূপ ও ধর্মচক্র। দুষ্প্রাপ্য ও তাৎপর্যপূর্ণ এই স্থাপনা বৌদ্ধ ধর্মের অষ্টাঙ্গিক মার্গকে নির্দেশ করে। এর আগে আবিষ্কৃত চারটিসহ এনিয়ে নাটেশ্বরে আবিষ্কৃত অষ্টকোণাকৃতির স্থাপনার সংখ্যা দাঁড়ালো পাঁচে।

সংবাদ সম্মেলননে জানানো হয়, সদ্য আবিষ্কৃত ৫ম স্তূপটি পূর্বের চারটি অষ্টকোণাকৃতির স্তূপের প্রায় অনুরূপ, কিন্তু পূর্বের ৩টি স্তূপের আদি পর্যায় এবং পরবর্তী পর্যায় দু'টি ধাপেরই স্তূপ স্থাপত্য অনেকটা সম্পূর্ণ অবস্থায় এবং ১টি অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল; ফলে আদি পর্যায়ের অষ্টকোণাকৃতি স্তূপটির স্থাপত্যকে বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণরূপে বুঝা যায়নি। কিন্তু এবারের ৫ম অষ্টকোণাকৃতির স্তূপের আদি পর্যায়ের স্তূপের স্থাপত্যিক বৈশিষ্ট্য উন্মোচিত হয়েছে, কারণ পরবর্তী পর্যায়ের স্তূপটি ছিল খুবই ক্ষতিগ্রস্ত।প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা কেন্দ্র এতিহ্য অন্বেষণের নির্বাহী পরিচালক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এই নাটেশ্বরে বৌদ্ধ ধর্ম সংস্কৃতির চর্চা আমাদের দাবি ৭শ-৮শ থেকে হাজার ১২শ শতকে আমাদের বাংলাদেশে নয় ভারতবর্ষের মধ্যে সবচে বিকশিত রূপ বিক্রমপুরে ঘটেছে অতীশ দ্বীপংকরের নেতৃত্বে। প্রথম অষ্টকোণাকৃতির স্তূপ পেয়েছি ২০১৩-১৪ সালের খননে, এরপর পর্যায়ক্রমে ২য়, ৩য় ও ৪র্থ টি পেয়েছি। আমাদের যে গবেষণা ও চিন্তা চেতনা সেখান থেকে মনে হচ্ছে পুরো এলাকায় আটটি অষ্টকোণাকৃতির স্তূপ আছে। অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি নূহ-উল-আলম লেনিন জানান, গত ১০ বছর যাবত আমরা খনন কাজ পরিচালনা করছি। আমরা বৌদ্ধ মন্দির নগরী আমরা আবিষ্কার করেছি। ৮ম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর বিভিন্ন সময় নির্মিত হয়েছে।এবারে সর্বশেষ আমরা একটি অষ্টোকোণাকৃতির স্তূপ ধর্মচক্রসহ আবিষ্কার করেছি। এই ধরনের নিদর্শন বাংলাদেশে আর কোথাও নেই। সেই দিক থেকে এটা এক অবিস্মরণীয় আবিষ্কার। খনন কাজ অব্যাহত থাকবে আগামী ২ বছর। খনন কাজ শেষ হলে চীনাদের সহযোগিতায় এখানে যেন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠে এবং আবিষ্কৃত নিদর্শনগুলো যেন সংরক্ষিত হয় আর্কিওলজিক্যাল পার্ক আমরা করব।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় সচিব আবুল মনসুর জানান, খনন কাজে নতুন আবিষ্কৃত স্থাপনা দেখে আমি খুশি। এর মূল্য অনেক অনেক। বাকি ৩টি আবিষ্কৃত হওয়ার পর একটি ফরমেটে আসবে একটি ম্যাপে আসবে। তারা যে খনন করেছে, আবিষ্কার করেছে- এটি অত্যন্ত আশাপ্রদ। এর মাধ্যমে পর্যটন তথা আমাদের বিক্রমপুর যে প্রাচীন সভ্যতার অংশ, তা সারাবিশ্বে প্রমাণিত হবে।সঙ্গত, ২০১৩ সালে নাটেশ্বরে আবিস্কৃত হওয়া প্রত্ননিদর্শন ৭ম থেকে ১২শতকের বৌদ্ধ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত মন্দির ও নগরের ধ্বংসাবশেষ। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গত নভেম্বরে নবম ধাপের খননকাজ শুরু করে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা কেন্দ্র ঐতিহ্য অন্বেষণ।