মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২ ||

তথাগত অনলাইন |বুড্ডিস্ট নিউজ পোর্টাল

প্রকাশের সময়:
মংগলবার ২৮ মার্চ ২০২২, ,৭ টা

160

ভদন্ত রূপানন্দ ভিক্ষু

ছেলে মেয়েদের ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিকতা কাজে উদ্বুদ্ধ করুন

প্রকাশের সময়: মংগলবার ২৮ মার্চ ২০২২, ,৭ টা

160

ভদন্ত রূপানন্দ ভিক্ষু

ছেলে মেয়েদের ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিকতা কাজে উদ্বুদ্ধ  করুন

মানব জীবন অতীব দুর্লব এই দুর্লব জীবনকে সুন্দর ও সার্থক করতে হলে প্রথমত আমাদের সকলকে ধর্ম শিক্ষায় জ্ঞানী হতে হবে, বিশেষ করে বর্তমান সময়ের ছেলে মেয়েদের জন্য ধর্মীয় শিক্ষা খুবই প্রয়োজন, বর্তমান সময়ের পিতা মাতারা তাদের ছেলে মেয়েদের কে সঠিক ভাবে ধর্মীয় শিক্ষা প্রধান করছে না, বিশেষ করে তাদের কে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার উপর পিতা মাতারা বেশি জোর প্রধান করছে। যার কারণে পরবর্তী সময়ে ছেলে মেয়েরা ধর্মীয় শিক্ষা না থাকার কারণে সমজে ও পরিবারে অনেক সমস্যা সৃষ্টি করে যেমন- পরিবারে মধ্যে অশান্তি বিরাজ করে, পিতা মাতার কথার উপর অগ্রাহ্য করে, বিভিন্ন নেষা দ্রব্য সেবন করে, 

বর্তমান সময়ের পিতা মাতারা তাদের ছেলে সন্তান জন্মের পর ছোট থেকে লেখা পড়া করানোর জন্য শহরে চলে যায় বা বিদেশে চলে যায় । যেখানে কোন ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করার সুযোগ নেই, যার কারণে ছেলে মেয়েরা গ্রামে এসে গ্রামের মানুষের সাথে মিশতে পারে না।  যেমন ধর্মীয় শিক্ষা নৈতিক শিক্ষা না থাকার কারণে কার সাথে কী ভাবে কথা বলতে হবে তাও ভাল করে বুঝতে পারে না। গুরু জনের সাথে কীরূপ আচরণ করতে হবে, ভিক্ষু শ্রামণের সাথে কীভাবে শ্রদ্ধা সন্মান করতে হবে তার হিতাহিত জ্ঞান তাদের খুবই কম দেখা যায়।  তাই আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি সন্তান জন্মের পর তাদেরকে অন্ততপক্ষে প্রথম থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত গ্রামে লেখা পড়া করানো উচিত। এই কথা এই কারণে বলছি যে তারা যদি সেই সময়টুকু গ্রামে থেকে লেখা পড়া করে গ্রাম সম্পর্কে, সমাজ সম্পর্কে, ধর্ম সম্পর্কে, অনেক ধারণা লাভ করতে সক্ষম হবে। 

এর মধ্যে পিতা মাতা যদি তাদের ছেলে মেয়েদের প্রতিদিন বিহারে নিয়ে গিয়ে বুদ্ধকে, ভান্তেকে বন্দনা করে।  প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্টানে নিয়ে গিয়ে ভান্তেদের থেকে ধর্ম দেশনা শ্রবণ করে।  তাহলে তারা কিছু হলে ও ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করতে সক্ষম হবে। অনেক যুবক ছেলে মেয়েরা এখনো পর্যন্ত বুদ্ধ বন্দনা থেকে শুরু করে কোন বন্দনা তাদের জানা নেই ।পঞ্চশীল তো দূরের কথা এই অবস্থা হলে আমাদের বৌদ্ধ সমাজের কোন উন্নতি সাধন করতে পারব না। তাই সকল পিতা মাতারা আপনাদের ছেলে মেয়েদের সঠিক ভাবে প্রাতিষ্টানিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার উপর ও দৃষ্টি রাখুন।  তা নাহলে পরবর্তিতে আপনাদেরকেই দুঃখ ভোগ করতে হবে। আমাদের পরিবারে ছোট ছোট শিশু-কিশোরদের আমরা ধর্মীয় কাজে উৎসাহ দিতে খুবই অনীহা বোধ করি। কিরকম? এই যেমন অনেকের বাসার কাছেই বিহার, ওরা যদি বলে একটু বিহারে গিয়ে বন্দনা করে আসি বা বিহারে গিয়ে ঘুরে আসি তখন অভিভাবকরা যেতে দেন না। বলেন এখন পড়ে নাও, বিহারে পরে গেলেও চলবে। এতে করে সন্তানটির বিহারে যাবার মানসিকতা নষ্ট হয়ে যায়। আবার, অনেকেই পূর্ণিমা-অমাবস্যা বা কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সন্তানদের বাসায় রেখে যেতে বেশী পছন্দ করেন। বলেন, তোমাদের বিহারে যেতে হবে না। টিচার আসবে, পড়ে নিও। এভাবে না যেতে যেতে ওদের বিহারে কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাবার আর ইচ্ছেটা জাগ্রত হয় না। কারণ পরিবারের বাঁধার কারণেই এরকম হয়ে গেছে। এখন তাকে শতবার বললেও সে যায় না। সে যায় বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে, আনন্দ ফুর্তি করতে। কারণ..., এরকম মানসিকতা ছোটকাল থেকেই অভিভাবকরা এভাবেই গড়ে দিয়েছেন।আবার অনেক বাচ্চা আছে একটু সুযোগ পেলেই বিভিন্ন ধর্ম বই নিয়ে পড়তে বসে। এখানে ও অভিভাবকরা পড়তে উৎসাহিত করেন না বরং বলে থাকেন, আগে পড়ালেখা শেষ করো তারপর ঐগুলি পড়ো।

প্রতিনিয়ত সন্তানরা এসব না শুনতে শুনতে ধর্ম বই পড়া, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাবার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাই সন্তানদের বিহারে যাবার সময় সাথে নিয়ে যান, ধর্ম বই পড়তে উৎসাহিত করুন। দেখবেন সুন্দর জীবন গঠন করবে আপনারই সন্তান, যাকে নিয়ে একদিন আপনার খুব গর্ব হবে এবং সন্তানের সম্মান সূচক মা-বাবার গৌরবান্বিত হবেন যাকে বলে কীর্তি মানের মৃত্যু নাই।