মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২ ||

তথাগত অনলাইন |বুড্ডিস্ট নিউজ পোর্টাল

প্রকাশের সময়:
রবিবার , ৩০ জানুয়ারী ২০২২

103

প্রতিবেদন

রাউজান পাহাড়তলী মহামুনি বৌদ্ধ বিহার

প্রকাশের সময়: রবিবার , ৩০ জানুয়ারী ২০২২

103

প্রতিবেদন

রাউজান পাহাড়তলী  মহামুনি বৌদ্ধ বিহার

রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী মহামুনি গ্রামে টিলার উপর মহামুনি বৌদ্ধ বিহার (Mahamuni Buddhist Vihara) অবস্থিত। ধারণা করা হয়, ১৮১৩ সালে চাইংগা ঠাকুর নামের এক বৌদ্ধ ধর্মগুরু মহামানব গৌতম বুদ্ধের মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে এই বৌদ্ধ বিহার প্রতিষ্ঠা করেন। এ কারণে গৌতম বুদ্ধের নামের সাথে মিলিয়ে নাম রাখা হয় মহামুনি মন্দির। আবার ড. রামচন্দ্র বড়ুয়া তাঁর ‘চট্টগ্রামের মগের ইতিহাস প্রাগুক্ত’ গ্রন্থে ১৮০৫ সালে মহামুনি বৌদ্ধ বিহারের মন্দির ও মুর্তি নির্মাণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। মহামুনি বৌদ্ধ বিহারের প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও এই স্থাপনাটি প্রায় ২০০ বছরের পুরাতন একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন এ বেপারে কোন সন্দেহ নেই। ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে মং সার্কেল রাজা মহামুনি বৌদ্ধ বিহার চত্বরে চৈত্র মাসের শেষ দিন থেকে এক মেলার প্রবর্তন করেন। যা দেশজুড়ে মহামুনি মেলা নামে পরিচিতি লাভ করে। তৎকালীন সময়ে অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রচুর দর্শনার্থী মেলায় আগমন করতেন। ঐতিহাসিক মহামুনি বৌদ্ধ বিহারের জন্য বর্তমানে এই গ্রামটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে এক পবিত্র তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। মহামুনি বৌদ্ধ বিহার দেখতে যেতে চাইলে প্রথমে চট্টগ্রাম আসতে হবে। এরপর চট্টগ্রাম থেকে বাসে কাপ্তাই সড়ক ধরে রাউজান পাহাড়তলী নেমে সিএনজি কিংবা রিকশায় চড়ে মহামুনি বৌদ্ধ বিহার যেতে পারবেন। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম: ঢাকা থেকে সড়ক, রেল এবং আকাশপথে চট্টগ্রাম যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। রাজধানীর সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে সৌদিয়া, ইউনিক, টিআর ট্রাভেলস, গ্রিনলাইন, হানিফ, শ্যামলী, সোহাগ, এস.আলম, মডার্ন লাইন ইত্যাদি বিভিন্ন পরিবহনের এসি/নন-এসি বাস ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করে। আর ট্রেনে চট্টগ্রাম যেতে চাইলে ঢাকার কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলওয়ে ষ্টেশন হতে সোনার বাংলা, সুবর্ন এক্সপ্রেস, তূর্ণা-নিশীথা, মহানগর প্রভাতী/গোধূলী কিংবা চট্রগ্রাম মেইলে যাত্রা করতে পারেন। এছাড়া ঢাকা থেকে বেশকিছু বিমান সংস্থা চট্টগ্রামগামী ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ নিতে চাইলে হোটেল জামান থেকে ঘুরে আসতে পারেন। আর মেজবানি খাবারের জন চকবাজারে অবস্থিত “মেজবান হাইলে আইয়্যুন” রেস্তোরার বেশ সুনাম রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম শহরে জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বেশকিছু ভালমানের রেস্টুরেন্ট আছে। এদের মধ্যে বারকোড ক্যাফে, মিলেঞ্জ রেস্টুরেন্ট, গ্রিডি গাটস, ক্যাফে ৮৮, সেভেন ডেইজ, ধাবা, হান্ডির নাম, গলফ গার্ডেন রেস্টুরেন্ট, কোষ্টাল মারমেইড রেস্টুরেন্ট এন্ড লাউঞ্জ, বোনানজা পোর্ট রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। কোথায় থাকবেন: চট্টগ্রাম শহরে বিভিন্ন মানের অসংখ্য আবাসিক হোটেল পাবেন। পছন্দমত ও বাজেট অনুযায়ী হোটেল নিতে কয়েকটি হোটেলের খোঁজ নিয়ে যাচাই করে নিন। প‌্যারামাউন্ট, হোটেল অবকাশ, হোটেল লর্ডস ইন, হোটেল এশিয়ান এসআর, হোটেল ল্যান্ডমার্ক ইত্যাদি হোটেলে ৮০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যে রাত্রিযাপন করতে পারবেন।