মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২ ||

তথাগত অনলাইন |বুড্ডিস্ট নিউজ পোর্টাল

প্রকাশের সময়:
রবিবার , ৩০ জানুয়ারী ২০২২ ,১৯.৪৯

178

স্বপন কুমার বড়ুয়া

কীর্তনীয়া শাক্যমিত্র বড়ুয়ার ৮ম প্রয়াণ দিবস আজ

প্রকাশের সময়: রবিবার , ৩০ জানুয়ারী ২০২২ ,১৯.৪৯

178

স্বপন কুমার বড়ুয়া

কীর্তনীয়া  শাক্যমিত্র বড়ুয়ার ৮ম প্রয়াণ  দিবস আজ

আজ ৩০ জানুয়ারি গুণী সংগীত ব্যক্তিত্ব শাক্যমিত্র বড়ুয়ার ৮ম প্রয়াণ দিবস ।                              
  
শাক্যমিত্র বড়ুয়া আলোকোজ্জ্বল এক সঙ্গীতশিল্পী নাম। স্ব-মহিমায়  যিনি প্রতিভাত। যাঁর সুরের ঝর্ণাধারা আর কণ্ঠের মাধুরীতে সাংস্কৃতিক অঙ্গন সমৃদ্ধ হয়েছে,আলোকিত হয়েছে। শাক্যমিত্র বড়ুয়া নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের উৎসাহ,উদ্দীপনা,প্রেরণার বাতিঘর হিসেবে পথ আলোর পথ দেখাবে বহুকালধরে। গ্রাম বাঙলার লোক সংগীত, বাউল সংগীত, দেশের গান সর্বোপরি বৌদ্ধ ধর্মীয় সংগীতে গায়কীর ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্য ও অদ্বিতীয়। বিশেষ করে ঝিমিয়ে পড়া বৌদ্ধ সংগীতের পুনঃজাগরণে তাঁর অসাম্য  অবদাব চির স্মরণীয়-বরণীয় হয়ে থাকবে।                                         
           
সংগীতশিল্পী শাক্যমিত্র বড়ুয়ার জন্ম চট্টগ্রামের চন্দনাইশের কানাইমাদারী গ্রামে। তাঁর পিতা প্রয়াত বীরভদ্র বড়ুয়া, মাতা প্রয়াত ঐরাবতী বড়ুয়া। সংগীতের প্রতি অন্তপ্রাণ শিল্পী শাক্যমিত্র বড়ুয়া ১৯৬০ সাল হতে সংগীত চর্চা অনুশীলন রেওয়াজের উৎকর্ষতায় একসময় নিজেকে সংগীতাঙ্গনে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। সেই হতে আমৃত্যু সংগীত ভুবনে তাঁর জয়-জয়কার-শ্রোতা-দর্শকপ্রিয়তার তুঙ্গে ছিলো।

গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক হিসেবে শিল্পী শাক্যমিত্র বড়ুয়া সর্বমহলে সমধিক পরিচিত এবং জাতীয়ভাবে স্বীকৃত ছিলেন। চট্টগ্রাম বেতারের ‘ক’ বিশেষ শ্রেণিভুক্ত শিল্পী শাক্যমিত্র বড়ুয়ার দরাজ গলার বাউল গান, লোকগান জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলো। তাঁর লোকগানের প্রায় ৫৪টি ক্যাসেট বেরিয়েছে। তিনি লোক সংগীতের প্রায় ৬০০ গান রচনা ও সুর করেছেন। চট্টগ্রামে নাট্যমঞ্চে প্রায় ১৬০টি নাটকের সংগীত পরিচালনা করে অনেক সুনাম কুড়িয়েছেন শাক্যমিত্র বড়ুয়া। ৮০'র দশকে বৌদ্ধ ধর্মীয় সংগীতের প্রতি তাঁর প্রগাঢ় অনুরক্ততা সৃষ্টি হয়, যার ফলে বৌদ্ধ ধর্মীয় সংগীত নিয়ে করেছেন বহু ক্যাসেট, করেছেন অ্যালবাম, মার বিজয়ী অরহৎ উপগুপ্ত, মহাউপাসিকা বিশাখা, সম্রাট অশোক, আম্রপালি, অতীশ দীপঙ্কর, সিদ্ধার্থের গৃহত্যাগ ও বুদ্ধত্ব লাভ ভিডিও সিডি। ৭০-৮০’র দশকের চট্টগ্রামের বাউল গানের অপ্রতিদ্বন্দ্বী শিল্পী শাক্যমিত্র বড়ুয়া ১৯৭৩ সালে প্রথম মাইজভান্ডারী ক্যাসেট বের করেন এবং তিনিই বেতারে প্রথম বাউল গান পরিবেশন করেন। সংগীতের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য শিল্পী শাক্যমিত্র বড়ুয়া সংবর্ধিত হয়েছেন সর্বপ্রথম জন্ম জনপদ কানাইমাদারী গ্রামবাসী কর্তৃক। তাঁকে ‘সুররত্ন’ সম্মাননায় সংবর্ধিত করেছেন বিশ্ব বৌদ্ধ সৌভ্রাতৃত্ব সংঘ। তাঁর কর্মকৃর্তির জন্য নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে সংবর্ধিত করেছেন- ত্রৈমাসিক সম্যক সম্মাননা,সীবলী সংসদ, ধর্মরাজিক বিহার কমলাপুর, ধ্রুব পরিষদ চট্টগ্রাম, চাকমা বৌদ্ধ বিহার পানছড়ি ইত্যাদি।

ওস্তাদ জগদানন্দ বড়ুয়া, ওস্তাদ অমিতাভ বড়ুয়ার সান্নিধ্য ধন্য ও পিতা বীরভদ্র বড়ুয়া, শ্বশুর নিরোদ রঞ্জন বড়ুয়ার স্নেহসিক্ত শিল্পী শাক্যমিত্র বড়ুয়া ১৯৭৭ সালে বাংলা ছায়াছবি ‘ঈমানে’ প্লেব্যাক করেছেন। শিল্পী ১৯৭৩ সালে চারুকলা কলেজ চট্টগ্রামে বিশ্বখ্যাত বাউল সসম্রাট পূর্ণদাসের সান্নিধ্য লাভ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী শিল্পী শাক্যমিত্র বড়ুয়া ৬০’র দশকের শেষে চট্টগ্রাম জে.এম. সেন কলেজে প্রায় ৬ বছর অধ্যাপনা করেন। পরবর্তীতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় সমাজ সেবা অধিকর্তা পদে যোগ দেন এবং উপ-পরিচালক হিসেবে কর্মজীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন।

বহুমুখী প্রতিভাসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব,গীতিকার, সুরকার,সংগীত পরিচালক, সংগীতশিল্পী শাক্যমিত্র বড়ুয়া ২০১৫ সালে ৩০ জানুয়ারি ৭৬ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেন।