মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২ ||

তথাগত অনলাইন |বুড্ডিস্ট নিউজ পোর্টাল

প্রকাশের সময়:
রবিবার , ৩০ জানুয়ারী ২০২২ ,৬.০০

189

নিজস্ব প্রতিবেদন

আজ পূজ্য বনভান্তের দশম প্রয়াণ দিবস

প্রকাশের সময়: রবিবার , ৩০ জানুয়ারী ২০২২ ,৬.০০

189

নিজস্ব প্রতিবেদন

আজ পূজ্য বনভান্তের দশম প্রয়াণ দিবস

আজ রবিবার ৩০ জানুয়ারি ২০২২ইংরেজি । রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারের অধ্যক্ষ , পরমপূজ্য শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের দশম প্রয়াণ বার্ষিকী । ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি অন্যান্যবারের মতো পূজ্য বনভান্তের ৯৩তম জন্মদিন জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্‌যাপিত হয়।

সেবছর বনভান্তের জন্মদিন উপলক্ষে থাইল্যান্ডের ধম্মকায়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং বনভান্তের শিষ্যসংঘের সার্বিক সহযোগিতায় ২৯৪ জন কুলপুত্রকে প্রব্রজ্যা প্রদান করা হয়। ১১ জানুয়ারি ভোরে পূজ্য ভান্তে তাঁর শিষ্যসংঘকে প্রাত্যহিক ধর্মদেশনা প্রদান করেন। বলা বাহূল্য, এটি ছিল তাঁর শিষ্যসংঘের উদ্দেশে সর্বশেষ ধর্মদেশনা ১৩ জানুয়ারি লে. জেনারেল জগৎ জয়সুরিয়া, কমান্ডার অব দ্য শ্রীলঙ্কান আর্মি, রাজবন বিহার পরিদর্শন করেন এবং ভিজিটরস বইয়ে স্বাক্ষর করেন। ১৫/১৬ জানুয়ারি পূজ্য ভান্তে ঠাণ্ডাজনিত কারণে সামান্য অসুস্থ হয়ে পড়েন। ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি পূজ্য বনভান্তের জ্ঞাতিবর্গ ভান্তের উপস্থিতিতে ‘বনভান্তের বিশ্রামাগার’-এ সংঘদান করেন। এবং তাঁর কনিষ্ট ভ্রাতা জহর লাল-প্রদত্ত সর্বশেষ আহার গ্রহণ করেন। পরদিন হতে পূজ্য ভান্তে সম্পূর্ণ খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করেন—শুধুমাত্র কখনও কখনও সামান্য পরিমাণ কোকাকোলা পানীয় পান করেন। এরপর থেকে ক্রমেই তাঁর অসুস্থতা বাড়তে থাকে। ২৩ জানুয়ারি পূজ্য ভান্তের কনিষ্ঠ ভ্রাতা জওহর লাল চাকমা রাঙামাটি সদর হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। ২৬ জানুয়ারি পূজ্য ভান্তের শারীরিক অবস্থা ভীষণভাবে অবনতি হওয়ায় এক জরুরি আলোচনা আহ্বান করা হয়। উক্ত সভায় পূজ্য ভান্তের শিষ্যসংঘ, মেডিকেল বোর্ডের ডাক্তাররা ও চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়সহ উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক সর্বসম্মতিক্রমে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজধানী ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২৭ জানুয়ারি বেলা ১২:০৮ মিনিটের দিকে পূজ্য ভান্তের শত শত শিষ্য ও হাজারো ভক্ত-অনুরাগী মিলিত হয়ে পূজ্য ভান্তের আশু রোগমুক্তি কামনায় রাঙামাটি সার্কিট হাউসের মাঠে শ্রদ্ধেয় ভান্তেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেওয়া হয়। তার পর ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে সর্বাধুনিক উন্নত চিকিৎসা চলতে থাকে।

উল্লেখ্য, তিনি বিগত বেশ কিছুদিন ধরে ডায়াবেটিস, নিউমোনিয়া, কিডনী ও লিভারের জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন। ৩০ জানুয়ারি পরমপূজ্য বনভান্তে শত শত শিষ্য ও লাখো লাখো ভক্ত-অনুরাগীর সনির্বন্ধ প্রার্থনা উপেক্ষা করে ঢাকাস্থ স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩:৫৬ মিনিটে পড়ন্ত বিকেলে প্রয়াণ লাভ করেন। ১৯২০ সালের ৮ জানুয়ারী তিনি রাঙামাটি শহর থেকে দক্ষিণে মগবান মৌজার মোরঘোনা নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। লোকোত্তর সাধক বনভান্তের পবিত্র জন্মভিটাটি এখন আর নেই। কাপ্তাই হ্রদের পানির নিচে তলিয়ে গেছে! পুণ্যার্থী বৌদ্ধ অনুসারীরা বনভান্তের জন্মভিটার স্মৃতিকে জাগ্রত রাখার লক্ষ্যে ওই স্থানে একটি স্তম্ভ তৈরি করেছেন। হ্রদের পানি যখন হ্রাস পায়, তখন ওই স্তম্ভের চূড়া দেখে বনভান্তের জন্মস্থানকে নির্ণয় করা যায়। রাঙামাটি-কাপ্তাই নতুন সড়কের খুব কাছ থেকে এ স্তম্ভ দেখতে পাওয়া যায়।